হোম » সংস্কৃতি » ইসলামী সংস্কৃতি_ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
ইসলামী সংস্কৃতি_ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

ইসলামী সংস্কৃতি_ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

ইসলাম যেমন সুন্দর তেমনি ইসলামী সংস্কৃতিও আপন মহিমা ও বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। মানব জীবনের সকল কল্যানকর কর্মকান্ডই এ সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। এ ছোট্র লিখায় ইসলামী সংস্কৃতির পরিচয়, বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হল।
‘সংস্কৃতি’ মূল সংস্কৃত ভাষার শব্দ। এর ইংরেজী প্রতিশব্দ হল ঈঁষঃঁৎব এবং আরবী প্রতিশব্দ হলো ‘আস-সাকাফাই’। আরবী শব্দ ‘সাকাফাহ’ শব্দের অর্থ হলো-উপলব্ধি করা,জানা ও দ্রুত শেখা।।আর সঙস্কৃতি শব্দ গঠিত হয়েছে সংস্কার শব্দ থেকে। যার অর্থ হলো- শুদ্ধি,পরিমার্জন,মেরামত,ভ’ল সংশোধন, ব্যুৎপওি, কর্ম ও স্মৃতিজ মনোবৃওি।‘সংস্কৃতি’ অর্থ সংস্করন, সংস্কারকরন, বিশুদ্ধকরন, অনুশীলন লব্ধ দেহ-মন-হৃদয় ও আত্মার উৎকর্ষ। পরিভাষায় বিশ্বাসলব্ধ মূল্যবোধে উদ্ভাসিত, পরিশীলিত ও পরিমার্জিত মন-মানসিকতাকেই সংস্কৃতি বলা হয়।
ইসলামী সংস্কৃতির সংজ্ঞায় আমরা মুসলিম মনীষীদের বিভিন্ন সংজ্ঞা দেখতে পাই। ড. আযমী আস-সাইয়েদ বলেন,“ইসলামী সংস্কৃতি হলো সে সব উপার্জিত কর্মধারা যা ইসলামী শরীয়ত থেকে উৎসারিত, মূল্যবোধের উপর স্থাপিত, ইসলামী আকিদার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সামাজিক জীবনে ও ¯্রষ্টা ও তার সৃষ্টি জগতের সাথে সচেতন মাসুষের জীবনাচরনে তা স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।” আর ড. সালেহ হিন্দি এর সংজ্ঞায় বলেন, “ এ হলো এমন এক জীবন পদ্ধতি যা মুসলিমগন প্রতিনিয়ত প্রতিটি ক্ষেত্রে, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনাদর্শেও আলোকে অবলম্বন করছে; চাই তা সামাজিক জীবনের বৈষয়িক ক্ষেত্রেই হোক কিংবা সভ্যতা নামে পরিচিত আত্মিক ও চিন্তার ক্ষেত্রেই হোক।”
এ দুটো সংজ্ঞার আলোকে আমরা বরতে পারি- ইসলামি সংস্কৃতি হলো এমন বাস্তবসম্মত সামাজিক অবস্থা – ইসলামী আকিদা ও শরীয়ত থেকে নিজের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনচরন সংগ্রহ করে।” অতএব ড. ওমর সুলাইমান আল- আশকর যথার্থই বলেছেন, “মুসলিম উম্মার রয়েছে তার নিজস্ব সংস্কৃতি যা উম্মার প্রত্যেক ব্যক্তি ও সমষ্টির ব্যক্তিত্বকে তৈরী করে এবং অন্য জাতি থেকে একে স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট প্রদান করে।”
ইসলামী সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য:
ইসলামী সংস্কৃতির অনেক বৈশিষ্ট রয়েছে যা তাকে অন্য সব সংস্কৃতি থেকে আলাদা মর্যাদা দান করেছে এবং এমন একটি বিশেষ সুমহান সংস্কৃতিকে পরিনত করেছে যার আছে নিজস্ব মূলনীতি ও গতি ধারা, সুবিশাল ক্ষেত্র ও অবদান-মুসলিম জনসাধারনের জীবনে যার একটি ইতিবাচক সচল ভূমিকা রয়েছে, পাশাপাশি অন্য সব সংস্কৃতির উপর ও রয়েছে এর কল্যানকর প্রভাব। ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্টের মধ্যে বর্ণিত বিষয়গুলো উল্লেখ করা যেতে পারে:-
প্রথমত: ইসলামী সংস্কৃতি হলো রাব্বানী তথা আল্লাহ প্রদত্ত ও আল্লাহমুখী ঃ কেননা এর উৎস হল আল কুরআন ও আস-সুন্নাহ আর এ দু’টি উৎসই মহান রবের ওহী বলেই ইসলামে স্বীকৃত। ইসলামী সংস্কৃতি রাব্বানী হওয়ার কারনে আরো যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়েছে তা হলোঃ
১  এর মূলনীতি ও মূল্যবোধ বিশুদ্ধ, যথার্থ, মহান ও সর্বজননীন।
২  যাবতীয় ত্রুটি, মুর্খতা, ভুল ও প্রবৃতিাতর অনাচার থেকে তা মুক্ত।
৩  এটি বিশুদ্ধ ও সঠিক বিবেক ও জ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং জ্ঞান ও বিবেকের বিরুদ্ধে এর কোন অবস্থান নেই।
৪  মানুষকে আল্লাহ যে ফিতরাত ও ন্বাভাবিক স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তার সাথে এ সংস্কৃতি পুরোপুরি সংহতি প্রকাশ করে এবং সকল প্রকার বৈসাদৃশ্য ও অসঙ্গতি থেকে মুক্ত থাকে।
৫  এ সংস্কৃতির সবকিছুই খুবই স্পষ্ট ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে একে মানিয়ে নেয়া অত্যন্ত সহজ।
দ্বিতীয় ঃ ইসলামী সংস্কৃতি হলো সর্বব্যাপী। আর যেহেতু এটি তার মূলনীতি উৎস ও দিকদর্শনে যাবতীয় ত্রুটি হতে মুক্ত, তাই এটি একটি  পরিপূর্ণ জীবন ধারা।
তৃতীয়ত ঃ সুষম, ইনসাফ ও ন্যায়নীতি পূর্ণ এবং শ্রেষ্ট যাতে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি নেই। এটি সুষম ও শ্রেষ্ট কারন মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী সংস্কৃতি কোন প্রকার বাড়াবাড়ি ও ত্রুটি ছাড়াই সমতা বিধান করে। ইনসাফ ও ন্যায়নীতি পূর্ণ কারন এ সংস্কৃতি সাম্যের ভিত্তিতে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে যাতে কোন যুলুমের স্থান নেই।
চতুর্থত ঃ এটি পরিবর্তন সহিষ্ণু অথচ স্থায়ী ইসলামী মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ছাড়া উন্নতির ছোঁয়া লাভ করে না। আবার প্রকৃত মূল্যবোধ ও নীতি স্থায়ী না হলে জীবন স্থায়ী শান্তি ও সত্যের উপর স্থাপিত হতে পারে না। ইসলামী সংস্কৃতি তাই জীবনের অপরিহার্য এ দু’টো  দিককে ধারন করেছে।
পঞ্চমত ঃ এটি বাস্তব সম্মত ও ইতিবাচক ষষ্ঠত: এটি মানবতাবাদী ও সার্বজনীন।
বিষয়বস্তু ঃ
মুসলিম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রই ইসলামী সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। ইহও পরকালীন জীবনের প্রত্যেক বিষয়ে যেমন ইসলামের বানী ও অনুশাসন বিস্তৃত, তেমনি সেখানে ইসলামী সংস্কৃতির কার্যকারিতা ও প্রসারিত। বিশিষ্ট গবেষক সারা বিনতে সুলায়মান ইসলামী সংস্কৃতির বিষয়গুলো সুন্দরভাবে তুলে নিয়ে এসেছেন তার “ইসলামী সংস্কৃতির পরিচয় ও বিষয়বস্তু” নামক গ্রন্থে। সংক্ষেপে বিষয়বস্তুগুলো আমরা তুলে ধরছি ঃ
এক ঃ ইসলামের সকল দীনী নিয়ম-নীতি ও ব্যবস্থাপনা। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঃ
১.    ইসলামী আকিদা
এখানে মূলতঃ ¯্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কিত যাবতীয় ধ্যান-ধারনা ও বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা হয়, যার মূল উৎসই হলো আল- কুরআন ও সুন্নাহ।
২.     সকল ইবাদত
বড় বড় ইবাদত সমূহ আল্লাহর পক্ষ হতে ঝঢ়বপরধষ ধংংরমহসবহঃ. বান্দার প্রতি এর বাইরের অন্যান্য কর্মকান্ড আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে সম্পাদিত হলে তাও ইবাদাত বলে গন্য হয়ে থাকে।
৩.    দাওয়াত ও শিক্ষা
৪.    আখলাক ও চরিত্র
৫.    অর্থনীতি
৬.    রাজনীতি
দুই ঃ ইসলামী জীবন পদ্ধতির বিশেষ দিক সমূহ যেমন, স্বাধীনতা, দীনী উদারতা, মাসবাধিকার ইত্যাদি।
তিন ঃ সাহিত্য
চার ঃ ইসলামী জীবনাচার
পাঁচ ঃ বিশ্বমানবতা
ছয় ঃ আধুনিক সমস্যা ও তার সমাধান
বিশ্বব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে ইসলামী সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য খুবই স্পষ্ট। ইসলামী সংস্কৃতির সঠিক ধারা যদি আজ মুসলিম সমাজে অনুশীলিত হয়, তবেই মুসলিম সমাজ সঠিক ইসলামী পথে চলতে সক্ষম হবে।

আরও দেখুন

কবি সুফিয়া কামাল সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

কবি সুফিয়া কামাল : সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। নারী ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী। সমাজ ...

Leave a Reply