হোম » সৃজন » কবিতা » তানিয়া বিনতে অাকরাম’র কবিতা
তানিয়া বিনতে অাকরাম'র কবিতা

তানিয়া বিনতে অাকরাম’র কবিতা

ক্ষুদ্রকায় ভালবাসা

আমার ক্ষুদ্রকায় ভালবাসার
অতিশয় ক্ষুদ্র জল কনা
তোমাকে অর্ঘ্য হিসেবে
অর্পণ করিব,তুমি দেবতা হয়ে
তা গ্রহন করিও

রঙ্গ খেলা

দুনিয়া এক রঙ্গের খেলা,
সবাই খেলে রে ভাই রঙ্গ খেলা;
কেউ বা খেলে হাসির রঙ্গে
কেউ বা খেলে কাঁদার রঙ্গে,
কেউ বা ভুলে মিছে কথার মিথ্যা রঙ্গে,
ষাটউর্ধ্বের ভাইটিও ভাই মাততে চায়,
ষোড়শীর ঐ হাসির রঙ্গে!
কিন্তু রে ভাই উপায় কি বল?
পাছে যে ভয় ছেলে সংসারের।
রঙ্গ খেলাতে রঙ্গ মাখাতে,
ভুলে যায় না সেই বাদামওয়ালাও,
সময় পেলেই মাতে রঙ্গে,
যাএা পালার রঙ্গের নেশায়;
পথের ধারের সেই ছেলেটিও!
মাতে যে ভাই কাঁদামাটির রঙ্গ খেলায়,
ভ্রমর মাতে ফুলের রঙ্গে,
মধুর নেশায় উড়ে বেড়ায়,
মাঝে মাঝে চুপিসারে,
রঙ্গ ছড়ায় অভিযানে;
প্রেমিক মাতে প্রমের রঙ্গে,
স্বপ অাঁকে স্বপ বুনে,
গল্পকথক মেতে থাকে,
গল্প লেখার পাঠশালাতে;
চোখে শুধু ভাই রঙ্গ দেখি!
রঙ্গ দেখি অার রঙ্গ মাখি,
রঙ্গের মধ্যে ডুবে থাকি,
দুনিয়াটা ভাই রঙ্গ মেলা,
সবাই খেলে রঙ্গ খেলা”

নীল জোনাকি

তোমার অাছে প্রসন্ন বদন,
আমার অাছে রিক্তের বেদন,
তুমি অাছ পূর্ণ অালোয়,
অামি আছি ঘোর তিমিরে,
তুমি অাছ গর্বের উচ্চ শিখরদেশ,
একলা পরে আমি কলঙ্কিত নির্বাসন,
তোমার ঐ চোখে স্বপ্ন উচ্চকিত,
অামি ঘোর অন্ধকারে নির্বাসিত,
তুমি হাটছ গিরিপথ ;
অামি তলিয়ে যাচ্ছি গভীর সলিলে,
তোমার প্রতিক্ষায় বসে বিভোর সুখ প্রজাপতি ”
অামি একা নিভৃতে প্রহর যাপিত নীল জোনাকির

অগ্নিবান

প্রত্যুষ থেকে গভীর রাত
কাজের মধ্যে দিবস রাত,
এই মোদের শ্রমিক প্রাত,
লাঞ্ছনা অার বঞ্চনা
শুনি কত গুঞ্জনা;
এ বঞ্চনার শেষ যে কবে!
সমীক্ষার অগোচরে,
মুষ্টিবদ্ধ দাঁড়িয়ে মোরা,
প্রতিশোধের হুংকারে;
মালিক শ্রমিক প্রবঞ্চনা,
রুঁখবো মোরা অদ্য যে,
অাট ঘন্টা কাজের অঙ্গীকার
হও মালিক হও হুঁশিয়ার,
মালিক তোমার অগ্নিচক্ষু
অশ্রুসিক্ত করব যে,
বুকের লাল রক্তে অাজ
লাল পতাকা উড়বে যে,
ইতিহাস স্বাক্ষী হয়ে,
দুনিয়া স্মরন করবে যে,
এই ছিল সে মে দিবসের
অগ্নিবান শ্রমিক পণ

পিয়াস

প্রভাতের প্রথম সূর্যকরে
তোমার ঐ রাঙ্গা মুখে
অালতো করে ছুঁয়ে দিতে
অভিলাষ জাগে মন মন্দিরে।
মন গহিনে বসিয়া কে যেন,
মন্দিরা বাজায়;
মৃদুলা ছন্দপাত করে মোর
ভগ্ন মন্দ্রে
বীনা বাজায়ে কে যেন!
সুর তুলে উন্মত্ত হিয়ায়
মাতালিনী মাতিলুৃম ভনিতায়;
ছন্দো শৃগালী রতিরসে
প্রিয় যেন অচিন যুগে!
প্রভাতের সূর্যাচর
মৃদু কিরনে কিরন দিয়া
উত্তাপিত কম্পিত হিয়া’
যেন অনল দিবাকর
তাপিত তনু বিরল হেন
বাসনা চিত্তরস লভিনু এ প্রহর:
মনোবাঞ্ছা পীরিতি সুখে
মজিবে তনুতে তনু
জনমের পিয়াস তৃপ্ত মোর
রতিরস হেন
রতিদেব তোমায় অর্ঘ্য দিলাম

প্রেম দিবাকর
উত্তাপে মোরে উন্মত্ত করো
মোর হিয়াচল

মা

আব্বু অামার ব্ন্ধু আম্মু খেলার সাথী। একটি ডালে তিনটি সুখের পাখি।
এই চরন গুলো খুব ছোট বেলায় গুন গুন অাওয়াজ করে বলতাম।
এখনো মাঝেমাঝে বলি ঠিক এই সময়টাতে বলছি।অামার প্রিয় চরণ তিনটা।
কিন্তু এতটা বয়স বাড়ার পরও এই চরন তিনটা অামার মনে রেখাপাত করে।কিন্তু এখন অার একটি ডালে তিনটি সুখের পাখি নেই।এখন একটি ডালে সাতটি সুখের পাখি।
প্রতিদিন সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠা অামার নিত্য কর্মের মধ্যে একটি।অার এই নিয়ে মায়ের বকা শুনেই ঘুৃম ভাঙ্গে।সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে বেশির ভাগ সময় মায়ের হাতে খাওয়া লাগে
।কারন মানুষ হিসেবে অামি কিছুটা অলস বিশেষ করে রাতে খাবার বেলায়।কোনো কারন বশত মা বাসায় না থাকলে অামার কাজের সময় পার হয়ে যায় কিন্তু অামার ঘুম ভাঙ্গে না। কিন্তু যখন ভাঙ্গে তখন অার খাওয়ার সময় থাকে না।এর প্রধান কারন মা বাসায় নেই অামাকে কেউ উঠার জন্য তাড়া করে না।পুরো বাড়িটা যেন ফাঁকা।সে সময়টা কোমন যেন খুব হা হা কার করে। মনে হয় অামার যেন কেউ নেই কিছু নেই।
মা মানেই ভয় বিহীন রাজ্য।সমস্ত সুখের ছোঁয়া।
অনেক ভালবাসি তোমাকে মা।তুমি না থাকলে যে এখনো অামি ছোট বাচ্চাদের মতো খেতে পর্যন্ত পারি না।বাকী সব কিছুই এলোমেলো তুৃমি ছাড়া।সমস্ত ভালোবাসা সাতটি সুখের পাখিকে ঘিরে।

অবেলায় তুমি

অামার হৃদয়ের সমগ্রটা জুড়ে তুমি
বিশ্বাস কর!শুধু একবার

ঐ বুকে মাথা রেখে দেখ

তোমার কানে অামার হৃদস্পন্দন বাঁজবে না;

তুমি কেবল কাঁন্না শুনতে পাবে

তোমাকে না পাওয়ার কান্না

প্রতিনিয়ত তোমার ঐ কন্ঠস্বর

কাঁন্না হয়ে বাঁজে

বুকের বামপাশটায়

বড় অবেলায় পেয়েছি তোমায়

যখন তোমাকে অাপন করে পাওয়া

কেবল মরিচীকা

তৃষ্ণার্ত অামি
তোমাকে বুক পাঁজরে বঁধে রাখার তৃষ্ণা অামৃত্যু

কেন এলে না সেই সময়

যখন তুমি যৌবন দীপ্ত

অামি স্বপ্নচারিতা কিশোরী

এত অবেলায় কেন এলে?
ভালবাসা শেখাতে?
নাকি কান্না শেখাতে!

মাঝে মাঝে তোমাকে খুব পাষন্ড মনে হয়

জানতো!তোমার ঐ নীরবতা
দগ্ধ করে আমায়

যে দহনের কোন দাগ নেই
নেই কোন পোড়া গন্ধ
শুধু অাছে শুধু অাছে
দহন জ্বালা
খুব জানতে ইচ্ছে করে
তোমার ঐ নীরবতা

কেবল অামার প্রতি ভালবাসা?
নাকি নিছক দূরে যাওয়ার পূর্বানুমতি
কেন এত অবেলায় এলে তুমি!

জানালার পাশে

তুমি অামার প্রথম প্রেম
পূর্ব জনমের তরে
তোমায় নিভৃতে খুঁজে ফিরি
এই জনমের পরে

মনে নাহি কিছু পড়ে
তবুও ঐ মেঠোপথ দেখতে
বড় চেনা লাগে

পথের একপাশ বকুলের সারি
অপর পাশে দুলছে কলমি লতা
তার ফাঁকে জলের বুকে
ছোট ঢেউ করে খেলা

জলে ভাসে কলমিলতা
সাথে হাসে মালঞ্চমালা
হেসে কুটি কুটি লতা বাহার
জানালার পাশে দাঁড়ায়ে তুমি
দেখছ সে খেলা

কখনো বলতে পারি নি ভালবাসি

প্রতিদিন শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে তোমাকে পেছন থেকে দেখেই
সুখ অনুভব করতাম তুমি যখন অালো ছায়ায় হেঁটে অাসতে
স্নিগ্ধ বাতাসে তোমার
এলোমেলো চুলের ঘ্রান নাকে এসে লাগত
অামার কি মনে হত জানো?
অালতো করে তুমি অামার নাকে নাক ছু্ঁয়েছ
তুমি যখন পেছনে দাঁড়াতে..
যেন হিম হয়ে যেতাম
পায়ের শক্তিটুকু যেন কেড়ে নিয়েছিলে
মাথাটা এত ভারী হয়ে অাসত
যেন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি
ভেতরের মানুষটা বারবার
ধ্বনিত করত….
পেছন থেকে একটু জড়ায়ে রাখ
শুধু তোমাতেই বিলীন হতে চাই
কখনো বলতে পারি নি ভালবাসি
কিন্তু তুমি….
সত্যি কখনো অনুভব করতে পার নি?
সেই ভালবাসার অাকুতি!
কেন একবার তাকালে না এই চোখে?
কেন বাঁধা পড়লে না এই চোখের মায়ায়?
একবার চেয়ে দেখতে;
চোখের পুরোটা জুড়েই ছিলে তুমি।
চোখটা অাজকাল ভীষন জ্বালা করে,
অনেক লোকের ভীড়ে অামার মনে হত
মনে হত….
কেবল তোমাকেই দেখছি
হ্দপিন্ড যেন কেঁপে উঠত
মাঝে মাঝে পায়ে পা লেগে যেত
কতবার যে ভ্রম হয়েছি
পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে
পাঁচবারই মনে হত যে তুমি দাঁড়িয়ে অাছ
অাজকাল চোখটা ভীষন জ্বালা করে
কপোল বেয়ে অশ্রু ঝরে
কেন জান?
কখনো বলতে পারি নি
ভালবাসি

আরও দেখুন

আল-আকসা মসজিদে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে_এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

আল-আকসা মসজিদে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে_এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিন। মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান আল আকসা ...

Leave a Reply