হোম » সংবাদ » সাহিত্য সংবাদ » তিনবাংলা’র সমুদ্র-নদী জল বিষয়ক কবিতা পাঠ আলোচনা, স্মৃতিতপর্ণ অনুষ্ঠান
তিনবাংলা'র সমুদ্র-নদী জল বিষয়ক কবিতা পাঠ আলোচনা, স্মৃতিতপর্ণ অনুষ্ঠান

তিনবাংলা’র সমুদ্র-নদী জল বিষয়ক কবিতা পাঠ আলোচনা, স্মৃতিতপর্ণ অনুষ্ঠান

মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতার শেষ নেই। এই অফুরন্ত মেধাকে ভেঙে ভেঙে গড়ে তোলে সৃজনসভ্যতা। শিল্পী সাহিত্য- অর্থনীতি ও রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে কাজ করে বলেই আজও সভ্যতা টিকে আছে। অনৈতিক আদর্শহীন জীবনকে সৃজনশীতা পরিশিলীত করে। সমুদ্র-নদী জল বিষয়ক কবিতা পাঠ আলোচনা, স্মৃতিতপর্ণ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এক কথা বলেন।

৪ মে’১৭ রাজধানীর ব্লু ইকোনমি সেল হলরুমে তিনবাংলার সভাপতি ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথি ছিলেন পানি গবেষক ম. এনামুল হক, কথা ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, অনুবাদক ও কবি গৌরাঙ্গ মোহন্ত। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি জাহিদুল হক। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনবাংলা’র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট কবি সালেম সুলেরী। বিশেষ আলোচক ছিলেন কথাশিল্পী ও কবি ফরিদা মজিদ, কবি আসলাম সানী, কবি গোলাম শফিক, কবি সরকার মাহবুব, কবি সরদার ফারুক, কথাশিল্পী সুফিয়া রহমান।

অনুষ্ঠানে সমুদ্র-নদী জল বিষয়ক কবিতা পাঠ করেন কবি জামিল শাহ, সজল রাহী, তাসলিমা রুবী, বান্দা হাফিজ, রোকন জহির, আফসার নিজাম, ফেরদৌস সালাম, রফিকুল হক আখন্দ, ফরিদুজ্জামান, গোলাম শফিক, সালেম সুলেরী, জাকির হোসেন আজাদী, মনসুর আজিজ, ফরিদা মজিদ, রানা জামান ও কবি জাহিদুল হক।
অনুষ্ঠানে টরেন্টো থেকে পাঠানো কবি মৌ মধুমতির কবিতা পাঠ করেন ফেরদৌস সালাম, কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা পাঠ করেন ফরিদা মজিদ।

সভাপতির বক্তব্যে কবি ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি শব্দ একটি আকাশ বিস্তৃত হতে পারে। কবিতা একটি দুরহ শিল্প মাধ্যম। আমাদের শিল্পের মাধ্যমে আমাদের সঞ্চয় রেখে যেতে চাই। তিনি বলেন, ছন্দ ছাড়া কাল কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। তিনি আরো বলেন, শিল্প বিমুখতা মানুষের অবক্ষয়তার কারণ। কবিতাকে প্রান্তিক মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তবেই আমাদের কবিতা মহৎ হয়ে ওঠবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি সালেম সুলেরী বলেন, আমি সৃজনশীলদের স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসি। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ে সহায়তা করতে চেষ্টা করি। আমি সারা পৃথিবীর বাংলাভাষি মানুষদের সৃজনক্রিয়াকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

সম্মানী মেহমান কবি সৈয়দ ইকলাবল বলেন, কবি হতে পারা একটি দারুন ব্যাপার। কবি হতে পারলে ধন্য হওয়া যায়। তিনি বলেন যতোটা পারা যায় লেখালেখি করা প্রয়োজন। কারণ জীবন খুবই ছোট তার জন্য বেশি বেশি লিখতে হবে।

সম্মানী মেহমান কবি গৌরাঙ্গ মোহন্ত বলেন, বাংলাকে অনেক বিদেশী ভালোবেসেছেন। বাংলা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিবন্ধকতা নেই। বাংলায় অনেকেই আছেন তারা ইংরেজি সাহিত্যে অনুবাদ করেছেন। তাদের বিষয়গুলো আমাদের আরো নজরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারতে আমাদের বইয়ের মার্কেটিং করা প্রয়োজন। সেখানে আমাদের বই বেশি বেশি বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলো বাঁচাতে হবে। তাই এই বিষয়ে আমাদের প্রচুর লেখালেখি করা প্রয়োজন।

প্রধান আলোচক কবি জাহিদুল হক বলেন, তিনটি ছন্দের উপর আমাদের সাহিত্য দাঁড়িয়ে আছে। তাই এই তিনটি ছন্দকে সামনে রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, কবিকে লাইম লাইটের আড়ালে থাকতে হয়। লাইম লাইটে আড়ালে কবি বেঁচে থাকে।

স্বাগত বক্তব্যে কবি গোলাম শফিক বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মানুষের সাথে জলের একটি সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের মধ্যে আছে অর্থনীতি। আমরা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে ব্লু ইকোনমি বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। সৃজনশীলতা এ বিষয়ে চিন্তা করবেন। তাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। যাতে করে ব্লু ইকোনমি দেশর উন্নয়নের সাথে যুক্ত হতে পারে।

কবি আসলাম সানি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ ভারতে বাংলা ভাষার লালন পালনের দায়িত্ব বাংলাদেশীদের। ভারাতে বাংলাভাষিরা স্বাধীন নয়। তাদের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা নয়। তাই সাহিত্য সাধনার কেন্দ্র বিন্দু এখন বাংলাদেশ। এই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

কবি সরদার ফারুক বলেন, সালেম সুলেরী ভালো সংগঠক। তার মতো সংগঠক সমাজে যতো বেশি থাকবে ততো বেশি লেখালেখীর পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানের তরুণ মূল ধারায় মতো লিখতে পারে না। তাদের উচিৎ মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত থাকা। ছন্দে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। কোন কবিই মেপে মেপে লিখে না। তাদের ভেতর একটি ছন্দ থাকে। সেই ছন্দকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে হবে। কবিতা সচেতন ও অবচেতন অবস্থায় কবিতা নির্মিত হয়।

কবি ফেরদৌস সালাম বলেন, কবি সাযযাদ কাদির যেমন ভালো মানুষ ছিলেন তেমনি তিনি ভালো শিক্ষক ছিলেন। তার ক্লাস শোনার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা বসে থাকতো। তিনি সারা জীবন শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

কবি সরকার মাহবুব বলেন, বাংলাদেশের বাইরে থেকে যেমন লেখকদের দেশে আনতে হবে তেমনি বাংলাদেশের লেখকদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

কথাশিল্পী সুফিয়া রহমান বলেন, কবি সাযযাদ কাদির ছিলেন রাসভারি মানুষ। তিনি মফস্বলের ছেলে মেয়েদের ঢাকায় এনে সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। যাতে করে সারাদেশের তরুণ সমাজ জাতীয় সাহিত্যে সম্পৃক্ত হতে পারে। কবি সাযযাদ কাদির ছিলেন প্রচার বিমুখ তাই তার প্রচার আমরা দেখতে পাইনি। আমরা আশা করবো এখন সে তার প্রকৃত মূল্যায়ন পাবেন।

আরও দেখুন

বহুমাত্রিক লেখক সাযযাদ কাদির আর নেই

বহুমাত্রিক লেখক সাযযাদ কাদির আর নেই

বহুমাত্রিক লেখক সাযযাদ কাদির আর নেই (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন) । আজ দুপুরে ০৬.০৪.২০১৭ ...

Leave a Reply