হোম » গনমাধ্যম » সংবাদপত্র » বাংলাদেশের গণমাধ্যম_আহমদ বাসির, আফসার নিজাম
%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae_%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6

বাংলাদেশের গণমাধ্যম_আহমদ বাসির, আফসার নিজাম

বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক ভয়াবহ পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এপরিস্থিতিতে এ দেশের গণমাধ্যম সহসাই পতিত হয়নি বরং এপতনের পটভূমি তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হলে চারটি পত্রিকা বাদে বাকি সকল প্রত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। জনগণ একপেশে সংবাদ পরিবেশনার উপর বিরক্ত হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমের উপর নির্যাতনের সেই শুরু। বাকশালোত্তর বাংলাদেশে গণমাধ্যম ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে, বিকাশের ধারা অদ্যাবধি বহমান। কিন্তু বর্তমানে বিকাশের এই বহমানধারা দূষণের শিকার হয়েছে সমাজের কায়েমি স্বার্থবাদীচক্রের দ্বারা। এদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত বিকশিত হয়েছিলো রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সংস্কৃতিসেবকদের দ্বারা। বর্তমানে গণমাধ্যম যাদের হাতে লালিত-পালিত হচ্ছে তারা অধিকাংশই কর্পোরেট স্বার্থে একে ব্যবহার করছে। কর্পোরেট-বাণিজ্যের সেবাই এখনকার গণমাধ্যমের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাজনীতি যখন নিজস্ব চরিত্র হারিয়ে সন্ত্রাস ও দলীয় স্বার্থনির্ভর হয়ে উঠেছে তখন সংবাদপত্রের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়ছে।
বিগত কয়েক বছরে বহু সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় আহত ও নিহত হয়েছেন। অনেককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। বহু সাংবাদিক পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি কোনোটিরও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, হলেও তা প্রকাশিত হয়নি।
যারা গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন তাদের উপর আদর্শবর্জিত কিছু ব্যবসায়ী ও দলবাজ সাংবাদিক সন্ত্রাসী বাক্যবানে আহত করেছেন তা দেশ-বিদেশে সচেতনমহলের জানতে বাকি নেই। গণস্বার্থের পক্ষে হাতেগোনা কয়েকজন সৎ এবং আদর্শিক কবি, দার্শনিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের অবস্থান থাকায় কায়েমি স্বার্থবাদীচক্র তাদেরকে অক্রমণ করে, কারাগারে আবদ্ধ করে, এমনকি হত্যার প্রচেষ্টাও চালিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছে এবং তা এখনো অব্যাহত আছে।

২.
গণমাধ্যম জনগণের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতার যে ভাগবাটোয়ারা সেখানে গণমাধ্যম একটি স্তম্ভ হিসেবে হাজির হয়। রাষ্ট্রশাসক আর জনগণ এই তিন যখন সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে তখন একে অপরের যেমন পরিপূরক হয় তেমনি একে অন্যের শত্রুও। আমাদের রাষ্ট্রে একচ্ছত্র অধিপতি যেহেতু শাসক সেহেতু সকল ক্ষমতার বৈধ অধিকার তিনিই ভোগ করেন। জনগণ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের সেই অধিকার পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যম হাজির হয় তার ক্ষমতা নিয়ে। এখানেই গণমাধ্যম আর গণমানুষ একাকার হয়ে যায়। গণমাধ্যমই হয়ে যায় জনগণের বৈধ ক্ষমতার হাতিয়ার।
শাসকগোষ্ঠী যখন দেখে জনগণের হাতিয়ার আছে। তখন সেই হাতিয়ার কেড়ে নেয়ার জন্যও তারা একই ধরনের হাতিয়ার তৈরি করে। মানে গণমাধ্যমের বিপরীতে তারাও গণমাধ্যম তৈরি করে। সেই গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে নিপীড়ন করে। তখন গণমাধ্যমের যে গ্রহণযোগ্যতা তা গণমানুষের কাছে অবশিষ্ট থাকে না। সেই বিষয়গুলোকে চিন্তা করেই আমরা বাংলাদেশ গণমাধ্যম গবেষণাকেন্দ্র গঠন করি। এই বিষয়ে তরুণ সাহিত্যিক, সাংবাদিক, পরিচালক, নাট্যপরিচালক, চিত্রপরিচালক, ফটোগ্রাফার, সংগীতপরিচালক নিয়ে একটি মতবিনিয়ম সভার আয়োজন করি। সেই আলোকেই গণমাধ্যম বিষয়ে একটি পত্রিকা করার পরিকল্পনা করি। প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকার নাম নির্ধারণ করে লেখা সংগ্রহ করি। লেখা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা অনুধাবন করি গণমাধ্যম বিষয়ক লেখার অপ্রতুলতা। যার প্রেক্ষিতে আমরা ওয়েব এর আশ্রয় নেই। অন-লাইন পত্রিকা, ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে লেখা সংগ্রহ করি। এই লেখা সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশিরভাগ লেখকের অনুমতি গ্রহণ করলেও কিছু লেখকের অনুমতি নেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের এ উদ্যোগকে ক্ষমাসুন্দরভাবে দেখবেন। সংকলনটির প্রতি আপনাদের সহানুভূতি অটুট থাকবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।
আমরা এই সংকলনে গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থা, তরুণ গণমাধ্যমকর্মীদের চিন্তাভাবনা, গ্রামীণ গণমাধ্যমগুলোর অবস্থা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সামাজিক গণমাধ্যমের ভূমিকা, গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে গণমাধ্যম নেতাদের আচরণ ইত্যাকার বিষয়গুলোকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি। যতোটুকু সম্ভব হয়েছে তার সবটুকু কৃতিত্ব এই সংকলনে যাঁরা লিখেছেন তাদের এবং প্রকাশে যারা অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

আরও দেখুন

কবি সুফিয়া কামাল সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

কবি সুফিয়া কামাল : সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। নারী ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী। সমাজ ...

Leave a Reply