হোম » সৃজন » গল্প » শহরের চাকা_মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
শহরের চাকা_মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

শহরের চাকা_মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

কুয়াশাচ্ছন্ন বিকেল। আগুনের ধুম্রজালের ন্যায় চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে উপলব্ধি করতে হবে, আশে-পাশে কোথাও আগুন লেগেছে। কিন্তু না, কোথাও আগুন লাগেনি। নাহার বেগম খড়-কুঠা জ্বালিয়ে নৈশভোজের জন্য ভাত রাঁধছেন। শীতকাল হওয়ায় খড়-কুঠা গুলো একটু ভেজা ভেজা তাই অধিক পরিমাণ ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ধোঁয়া আর কুয়াশার ঘনীভূত হওয়ায় কুয়াশা কিঞ্চিৎকর গাঢ় হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে; যার দরুণ দূর থেকে দেখলে আগুনের ধোঁয়ার মত মনে হয়।

নাহার বেগম উনুনে ফুঁক দিতে দিতে অসহ্য হয়ে যাচ্ছেন। ঊষের কারনে পাতাগুলো ঠিকমত জ্বলছে না। কিন্তু, তিনি আগুনের কাছে অসহায়। কিছুক্ষণ আগেই খাল-পাড় থেকে পাতাগুলো কুড়িয়ে এনেছেন। সকালবেলা শরীরটা তার ভালো যাচ্ছিলোনা তাই কোনরকম কাজ করতে ইচ্ছা পোষণ করেনি; অথচ এখন তার দ্বিগুণ খেষারত দিতে হচ্ছে। প্রকৃতির কাছে মানবজাতি সত্যিই অসম্ভব রকমের অসহায়!

অত্যাধিক ধোঁয়ার আখড়ায় থাকতে থাকতে নাহার বেগমের চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এল। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে হঠাৎ তার চোখ পড়লো ক্লান্ত স্বামী আলমের দিকে। লোকটার শরীর-গতর কয়েকদিন ধরে ভালো যাচ্ছেনা। চুপ-চাপ থাকে, কাজ-কাম করতেও আগের মত বাইরে যায় না। কি হয়েছে লোকটার ?

লোকটা আজকে অনেকদিন পর কাজ করতে বাইরে বেরিয়েছিল। আলম নিষ্প্রভ চোখে স্ত্রীর দিকে তাঁকিয়ে থেকে ঘরে ঢুকে পড়ে। নাহারের বুক ঝলাৎ করে উঠে। লোকটার কিছু হয় নাই তো। নাহার উনুনে জোরে জোরে কয়েকটা ফুঁক দিয়ে আগুন ধরিয়ে ঘরে চলে আসে। আলম কাঠের ভাঙ্গা-চোরা চৌকির উপর দু’হাতে ঝুঁকে নিচের দিকে তাঁকিয়ে আছে। নাহার বেগম সোজা স্বামীর কপাল-বুকে হাতের তালু ছুঁয়ে তাপমাত্রা দেখতে শুরু করে। নাহ, শরীর তো গরম না; কপাল কুঁচকে আসে তার। আলম বিছানায় কাঁত হয়ে শুয়ে পড়ে। নাহার অজানা আতঙ্কে কেঁপে উঠে। দীর্ঘ ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর হল নাহার বেগম কখনো তার স্বামীকে এমন অবেলায় বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেনি। তবে, কিছুদিন ধরে খুক খুক করে একটানা খালি কাশে। এত কাশ হলেও আলম উঠোনো বসে বসে বাঁশের কাজ করে; গাইডারে গোয়ালে দেয়। ক্ষেতে পানি দিয়া আসে।

“কি হইছে আফনের, শরীরডা কি ভালা না”

নাহার বেগম প্রচন্ড উৎকণ্ঠা নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করে। আলম কোন উত্তর দেয় না। চুপ-চাপ চোখ বন্ধ করে বসে থাকে।

“কি অইলো কথা কন না, ক্যান”

আলম অন্য কাঁত হয়ে শুয়ে পড়ে। এবার সত্যিই ভয় পেয়ে যায় নাহার বেগম। স্বামী অত্যাধিক রাগী মানুষ; গতবছরও পাশের গ্রামের মাধবররে কোপ মাইর‍্যা জেলে গেছিলো। তাই আর পাল্টা প্রশ্ন করে না নাহার। সে ও স্বামীর শিয়রে চুপ-চাপ বসে থেকে মাথায় বিলি কেটে দেয়।

পরদিন ফজরের আযানের পর, একনাগাড়ে কাশির খক খক শব্দে নাহারের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভেঙ্গে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসে সে; পাশে চেয়ে দেখে আলম প্রচন্ড বেদনায় কাতরাচ্ছে আর খুক খুক কাশতে কাশতে নেতিয়ে পড়ছে। ঘুম জড়ানো চোখে কনকনে শীতের মাঝেও ঘরে আলো প্রবেশ করাতে, জানালার কপাটদ্বয় মেলে দেন তিনি। ভোরের হিম হিম বাতাসে, মুহূর্তেই নাহারের চোখ ছেঁড়ে ঘুম পালিয়ে যায়। আলম আরেকবার কাশের খিঁচুনি দিতেই নাহার বেগম সাবধানে আলমের শরীর ধরে মাটির দিকে নিচুঁ করে। মাটির দিকে তাঁকাতেই ভয়ে নাহারের চোখ-মুখ নীল হয়ে আসে। জায়গায় জায়গায় কফের সাথে রক্তের ছোঁপ ছোঁপ দাগ লেগে রয়েছে। নাহার বেগম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। মাটিতে বিছানা পেতে ঘুমানো ছোট ছেলেকে ডাক দেয় নাহার বেগম। মায়ের ডাক শুনে বড় মেয়ে চোখ মেলে তাঁকিয়ে দেখে বাবার খুবই খারাপ অবস্থা। নাহারের চিৎকার বাড়ে,

“কি রে, মরার ঘুম কি তোগো শ্যাষ হয় না! বাপ-টা যে মরতাছে। এখনো উঠলি না”

ছোট ছেলে তের বছরের শান্ত তৎক্ষণাৎ ঘটনার পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারে। কনকনে শীতের মাঝেই ঘর ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে পড়ে;  ছোটে নূরুল হুদা কোবরেজের কাছে। নুরুল হুদাই অত্র গাঁয়ের একমাত্র হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। সার্টিফিকেটধারী কোন এম.বি.বি এস ডাক্তার এই অজ পাড়া গাঁয়ে নাই। একজন অবশ্য সার্টিফিকেট বিহীন এ্যালোপ্যাথিক ফার্মেসির ডাক্তার আছে, তবে তার ফি বেশি।

হুদা কোবরেজ এসে কয়েকটা গোল গোল সাদা মিষ্টি দানা দিয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আস্তে আস্তে আলমের দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়তে শুরু করে। দিন বাড়তে বাড়তে আয়-রোজগাড় ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। গাইটা প্রতিদিন এখন কাঁঠাল গাছতলায় বেঁধে রাখা হয়। ঘরে গুমোটে একধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে। উত্তোরোত্তর আলমের পেশীবহুল দেহের এমন খারাপ অবস্থা দেখে গাঁয়ের লোকেরা পরামর্শ দেয়- শহরে গিয়ে বড় ডাক্তার দেখাতে। শহরের কথা শুনেই আলমের মগজে পিকাসীয় আঁকি-বুকি চলতে শুরু করে। কেন যাবে সে শহরে, ক্যানো ?

এ গাঁ তার শহর। রক্তে-নাড়ির বন্ধনে তার গাঁয়ের গন্ধ মিশে আছে। বাপ-দাদারা এই গাঁ একসময় শাসন করে গেছে, এরপর আলম, তারপর তার সন্তান, এরপর ভবিষ্যৎ এইতো। গাঁয়ের হালকা লিলুয়া বাতাস তার শরীরে লাগতেই আনমনে ভালো লাগা তার মাঝে ছেঁয়ে গেল। আলম ভাবে- শহরে গেলে সে তৎক্ষণাৎ দম বন্ধ হয়েই মারা পড়বে। শহরে এত্ত এত্ত দালান-কোঠা আর গাড়ি-ঘোড়া মনে হতে তার আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে আসে। ছোটবেলায় একবার পাশের গ্রামের এক চাচার সাথে আলম শহরে গিয়েছিলো। সেদিন বড় গাড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে তার সামনে এক যুবক মারা যায়। সেই থেকেই শহরের কথা শুনলেই আলমের মনটা খারাপ হয়ে উঠে। আলম শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকে আগে কত সুন্দর সুন্দর গানের আসর জমাতো সবাই মিলে, একসাথে গাইতো-নাচতো। জীবনটার মানে তখন আলমের কাছে একটাই ছিলো- খাও দাও সময়মত
ফূর্তি কর নিয়মমত।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। নাহার হারিকেন জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকে। বাচ্চারা পাটি বিছায়ে পাঠ্যপুস্তক নিয়া পড়তে বসে। আলমের অবস্থার উন্নতি নাই। কিছু খায় না, কথা কয় না -খালি খক খক কইরা কাশে। সারাদিনের ক্লান্ত দেহে নাহার বিছানায় শোয় না, স্বামীর বুকে গরম রসুইয়ের তেল মালিশ করতে থাকে।

“কি গো, এহন কি একটু ভালো লাগতাছে”

‘আমারে তুই মাফ কইরা দিস রে, অনেক কষ্ট দিছি তোগোরে’

..এমন মায়ামাখা কন্ঠস্বরে স্বামীর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাঁকায় নাহার। অজানা অশুভ আশঙ্কায় কেঁপে কেঁপে উঠে নাহার। স্বামী বুকে মুখ গুঁজে হু হু করে কেঁদে উঠে। বাবা-মায়ের প্রথম এমন কাছাকাছি সম্পর্ক দেখে ছেলে-মেয়েও হাঁ করে তাঁকিয়ে থাকে।
পরক্ষণেই স্বামীর খুক খুক গলা ছেঁড়া কাশির শব্দে সম্বিৎ ফেরে নাহারের। কাশির আতিসায্যে গলা ছিঁয়ে যেতে চায় আলমের। শেষমেষ অসহ্য হয়ে এই প্রথম নাহার চোখ পাকিয়ে স্বামীকে বলে,

“আফনে কাইলিই যাইবেন শহরে, আমি আর কিছু শুনতে চাই না”

আলমের চোখে আবার সেই ভেসে উঠে, চুন-সুরকিয় ঘেরা অপরিচিত এক নরকের প্রতিচ্ছবি। আলম ভয়ে শিউড়ে ওঠে; স্ত্রীর দিকে তাই দাত কড়মড় করতে করতে বলে,

‘ওই ডাইনী, তুই কি আমারে মারবার চাস নাহি’

স্বামীর কথায় অনেকটা দমে যায় নাহার। কিছুক্ষণ দু’জনে চুপ মেরে বসে থাকে। এরপর, উঠে গিয়ে সশব্দে দরজা বন্ধ করে এসে ফুঁস-ফাঁস করতে থাকে।

“ও শান্তর মা, বাড়িতে আছ নি। আলম আছে নি ঘরে ?”

‘জ্বে, আব্বা। আছে ‘

মাথায় কাপড় দিতে দিতে দরজা খোলে নাহার। সম্পর্কে চাচা শশুর বাহাজ উদ্দিন খুব কমই আসেন এ বাড়িতে। লোকমুখে আলমের এমন যায়-যায় অবস্থা শুনে এসেছেন তিনি। পাঞ্জাবির পকেট থেকে তাবিজ বের করতে করতে বললেন- হুদা ডাক্তার কি কোন ডাক্তার হইলো। রোগ বইলা কি কিছু আছে। আল্লায় বিপদ দিছে, আল্লায় তুইল্লা নিবো। তুই বরং শহরেই যা,বাপ। চরপাড়ার কাশেইম্মা গতবছর এমন ব্যাধের কাশি হইয়্যা মরবার চাইছিলো কিন্তু অয় শহরে গিয়া বাঁচছে। চিন্তার কারণ নাই তুইও ভালো হবি, যাহ শহরে যাইয়া ঘুইরা আয়। ধরো বউ, তাবিজডা ওর কোমড়ে বাইন্ধা দিও। নাহার যেন চারপাশে ঘোর অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো খুঁজে পায়।

আলম শুশাইতে শুশাইতে বারবার উঠানামা করা কাঠক্লিষ্ঠ বুক নিয়া অতিকষ্ঠে চেঁচিয়ে বলে, হ চাচা। শহরে তো যামু, টাকা তো লাগবো।  এত টাকা আমি কই পামু কও!

নাহার যেন একটা বিশাল ধাক্কা খেল। আসল সমস্যাটা তো এটাই। তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। সুস্থ-সবল স্বামীর এমন অবস্থা নাহার নিজের চোখের সামনে আর চিন্তা করতে পারলোনা। বাহাজ্জুদি চাচা নরম গলায় বললো- ক্ষেত আর গাই ডা বিক্রি করছ না ক্যান। বিক্রি করলেই শহরের সব যোগারপত্তর হইয়া যাইবো।

নাহার দরজায় দাঁড়িয়ে সব শুনে। আলম তার উঠা-নামা করা বুক নিয়ে শাঁসিয়ে উঠে- তাইলে আমার বউ পোলাপাইনের আর কিছু খাইতেও হইবোনা-থাকতেও না। ওরা এতিমের লাহান ভিক্ষা করবো !

বাহাজ্জুদি চাচা-ও কম যায়না। তার বড় গলা শোনা যায় – আলাইম্ম্যা, হোন, তুই বাইচ্চা থাকলো অমন হাজার পাকি জমি কিন্না খাইতে পারবি। যাহ, তাড়াতাড়ি শহরে যা।

আলমের কাশির মাত্রা হু হু করে বেড়ে যায়। রক্তমাখা কফ লালাসহ মুখ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। একসময় অজ্ঞান হয়ে আলম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নাহার হাঁক ছেড়ে শান্তরে ডাক দেয় -ডাক্তার ডাকতে। এমন আর্তনাদে পাশের বাড়ির সবাই জড়ো হয়।

একদিন পর আলমের জ্ঞান ফেরে। চোখ মেলে তাঁকিয়ে দেখে, বাড়িসুদ্ধ লোক তার পাশে বসা। নাহার টাকা-কড়ি গুণে গুণে ফজল, বজল, আয়নাল, সেলিম-রে দিচ্ছে। আলম ধীরে ধীরে নাহাররে প্রশ্ন করে, তুই এতগুলান টাকা পাইলি কইত্তে ?

নাহার নির্লিপ্ত মুখে জবাব দেয়, গাইডারে বেইচ্চা দিছি। তোমারে আইজ শহরে নিয়া যাইবো। তুমি ভালা হইয়া যাইবা।

আলম শ্বাস টেনে টেনে বিড়বিড় করে বলতে থাকে- হ, তুমি ভালা কামই করছো। আমার মরণডা আরো আগায়া আনছো। সেদিনের পর থেকে আলম আর কারো সাথে কথা কয় না। দেখতে দেখতে পাঁচ সপ্তাহ চইলা গেল। আলমরে গ্রামের জোয়ান পোলাপাইনরা আজ শহরে নিয়া যাইবো। শেষবারের মতন স্বামীর হাড্ডিসার চেহেরা দেখে নাহার আর্তনাদ করে উঠে। তার গগনবিদারী হাহাকার শুনে বাঁশবাগানের বক-শালিকেরাও অশুভ আশঙ্কায় অন্যত্র উড়ে যায়।

শেষমেষ আলমকে একদিন শহরের কথা ভাবতেই হল। ভৌতিক দৃশ্যসম্পন্ন ভয়ানক এক পরিবেশ। জোয়ান চারজন যেন বিড়বিড় করে কি সব পরামর্শ করলো, পরক্ষণেই ক্লান্ত দেহে অবশ হয়ে পড়লো আলম। আজ সে পরাজিত জীবনযুদ্ধে। জীবনে কোন পাপ না করা ব্যাক্তিটা আজ অসহায়ত্বের শেষ সীমানায়। ছেলেগুলো চুরূটের ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ করে ফেলেছে জরাজীর্ণ হোটেলের এক রুম। নিঃশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে আলমের, পুরনো চলটা পড়া ছাদের দিকে তাঁকিয়ে ভাবছে সে, ছাদটা বুঝি এখনি তার বুকের উপর এসে পড়বে। খকখক করে কাঁশতে থাকে আলম। একদিকে চোখ ফিরিয়ে দেখে, গাঁয়ের ছেলেরা তখন মদ্যপানে ব্যস্ত; মাতাল হয়ে তারা গ্রামের একেক বাড়ির মেয়েদের নিয়ে তারা আলোচনা করছে। বাদ যায় না আলমের বড় মেয়েটাও। সদ্য গোঁফ গজানো সেলিম টলতে টলতে বলে- সুমাইয়া যে খাসা মাল, আমি রোজ রাতেই….। আলমের চোখ বেঁয়ে অশ্রুর বন্যা বয়ে যায়। ধোঁয়ার গন্ধে আরো জোড়ে জোড়ে কাঁশতে থাকে আলম। যুবকদের হাসি-আড্ডার শব্দও আরো রমরমা, আলমের কাঁশির শব্দ আর তাদের কানে পৌঁছুয় না। গান আর হাঁসির শব্দে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অবহেলিত অবস্থায় আলম রুমের এক কোণে মরা লাশের ন্যায় পড়ে থাকে।

মধ্যদুপুর। আলেমকে তারা নিয়ে যায় ডাক্তারের চেম্বারে। সারা পথ কাটে হাঁসি-ঠাট্টায়। আলম বিড়বিড় করতে করতে নাহারকে তার পাশে খুঁজে। সামনের কাঁঠালগাছে বাঁধা তার দুধেল গাই আর বাড়ির সামনের আবাদী দশ ডিসেম জমি খুঁজতে থাকে। নাহারের চেহেরাটা আলমের মনে পরিষ্কার আয়নার মত ভেসে উঠে।

টেলিস্কোপ নিয়ে তার দিকে আসে ডাক্তার। আলম দু’চোখে ঝাপসা দেখে- সাদাটে লাল রঙের গাড়িটা তার দিকে ছুটে আসছে। আলমের নিঃশ্বাস ফেলতে খুব কষ্ট হয়। কাঁধ পাশ ফিরিয়ে দেখে, যুবক চারজন ডাক্তারের চিন্তিত মুখের কাছে উঁবু হয়ে তাঁকায়। সকলের চেহেরা ক্রমশ বিবর্ণ হয়ে আসে। ডাক্তার ফ্যাটফ্যাটে মুখে বলে- আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন। রোগীকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়…..আলম
তার শেষ নিঃশ্বাস নিতে নিতে দেখে, চুন-সুরকির এই বিশাল শহরের চাকা তাকে আর তার পরিবারকে ক্রমাগত রক্তাক্ত করে বারবার পিষ্ট করে দিচ্ছে।

আরও দেখুন

কবি সুফিয়া কামাল সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

কবি সুফিয়া কামাল : সাহিত্য ও নারী আন্দোলন_আরিফ চৌধুরী

নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। নারী ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী। সমাজ ...

Leave a Reply